ক্লিন ইমেজধারীরা পাবে খুলনা জেলা বিএনপি’র আগামীর নেতৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্প পরিসরের কমিটি নিয়ে দু’বছর ধরে চলছে খুলনা জেলা বিএনপি। সরকারি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং দলের পক্ষ থেকে দিবস পালনের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। ফেব্রুয়ারিতে দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক বিস্তৃতি লাভ করেনি। নতুন কমিটির জন্য কেন্দ্র জেলা ও উপজেলায় নেতৃবৃন্দের জীবনবৃত্তান্ত চেয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর দলের জেলা কমিটি গঠন হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটির গতিশীলতা, নয়া নেতৃত্ব, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী সম্পর্কে এক আলাপচারিতায় এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি এ তথ্য দেন। তিনি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক। এক সময়ে রূপসার শ্রীফলতলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন।

এ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেছেন, গেল শনিবার কেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ও ছবি চেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই প্রথমবারের মত দলের পরিচয়পত্র পাচ্ছেন। দলের চেয়ারপার্সনের পরামর্শের ভিত্তিতে ক্লিন ইমেজধারীরা আসবে দলের খুলনা জেলার আগামীর নেতৃত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বলেছেন, কোনো প্রার্থীর পক্ষে গ্রিন সিগন্যাল নেই। তার পছন্দের প্রার্থী নেই বা কোনো প্রার্থীকে আশীর্বাদ করেন নি। একাধিক তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নেপথ্য থেকে দল আশীর্বাদ করবে। স্বৈরশাসনামলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য পাবে। গত ছয়মাসে কয়রা-পাইকগাছা উপজেলা পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন তৎপরতার সাথে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। গেল মাসে এ দু’উপজেলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার আয়োজন করা হয়। সরকারের উন্নয়ন তৎপরতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১২০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। পাইকগাছার রাড়ুলী, চাঁদখালী ও কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে ৮ বিঘা পরিধির খাস জমির ওপর খেলার মাঠ এবং পাইকগাছা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, কয়রা মিনি স্টেডিয়ামের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে খুলনা-২ ও ৬ আসনে শাসক দলের পরাজয়ের নেপথ্যে দুটি কারণ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ চিহ্নিত করেছেন। পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ৭১ ও ২৪ এর পরাজিত শক্তির ভোট একীভূত এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। খুলনা নগরীর ও কয়রা উপজেলার কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নির্বাচনের পরপরই কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়। খুলনা-২ আসনে দলের প্রার্থী ৫ হাজার ৫৯২ ভোট এবং খুলনা-৬ আসনে ২৬ হাজার ১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। উল্লেখ্য, দলের নগর পর্যায়ের বিবাদমান দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিরসনের অংশ হিসেবে নগরীর জিয়া হল প্রাঙ্গণে উভয় অংশ একমঞ্চে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন